চারণভূমি জলমগ্ন, গো-খাদ্য সংকটে বিপাকে খামারিরা
তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ গো-চারণ ভূমি তলিয়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলের কয়েক লাখ গবাদি পশু নিয়ে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছেন খামারি ও পশুপালনকারীরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৩৮টি চরে প্রায় ২ লাখ পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস গবাদি পশু পালন। বর্তমানে এসব চরে অন্তত ১২ লাখ দেশীয় জাতের গরু রয়েছে। সাধারণত চরের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ঘাস ও কাশবনেই এই বিপুল সংখ্যক গবাদি পশুর খাদ্যের জোগান হয়। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় চারণভূমিগুলো তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।
সাঘাটা উপজেলার দিঘলকান্দি চরের খামারি বারেক সরকার বলেন, "আমার ২০টি গরু এখন গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছি। মাঠের ঘাস না থাকায় বাড়ির জমানো খড় খাইয়ে কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছি।" একই চরের নুর ইসলাম জানান, নিচু জমি ডুবে যাওয়ায় এখন বাজার থেকে চড়া দামে খাদ্য কিনে খাওয়াতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ফুলছড়ির উজালডাঙ্গা চরের সাদ্দাম হোসেন জানান, গো-খাদ্যের অভাবে নিরুপায় হয়ে অনেকেই এখন পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে ঘাস ও কাশ কেটে আনছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চরাঞ্চলের গো-চারণ ভূমি ও ঘাসবন পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাময়িক এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিবেশে গবাদি পশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে চরের কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন।
Cattle Feed
Fish Feed